বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্রের বৈধতার মেয়াদ কত বছর
বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্রের বৈধতার মেয়াদ কত বছর. বাংলাদেশের কোটি কোটি নাগরিকের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়—এটি ভোটদান, ব্যাংকিং কার্যক্রম, মোবাইল সিম নিবন্ধন, পাসপোর্ট করা, সরকারি সেবা গ্রহণ এবং দৈনন্দিন নানা দাপ্তরিক কাজে অপরিহার্য একটি নথি। তবুও একটি প্রশ্ন আজও অনেকের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করে রেখেছে—জাতীয় পরিচয়পত্রের মেয়াদ কত বছর?
অনেক নাগরিক তাদের এনআইডি কার্ডের পেছনে ছাপা থাকা একটি মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ দেখে চিন্তিত হয়ে পড়েন—কার্ডটি কি এখনও ব্যবহারযোগ্য? আবার কেউ কেউ নবায়ন ফি নিয়ে গুজব শোনেন বা মনে করেন তাদের এনআইডি হয়তো পুরোপুরি মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। বিশেষ করে যাঁরা এখনও স্মার্ট কার্ড পাননি, তাঁদের মধ্যে এই দুশ্চিন্তা আরও বেশি।
এই গাইডে আমরা সহজ ও স্পষ্ট ভাষায় ব্যাখ্যা করেছি—বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রের বর্তমান বৈধতা কী, নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কী বলছে এবং আপনার কার্ডে ছাপা মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ আদৌ কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে কি না। লেখা শেষ করার পর আপনার মনে আর কোনো বিভ্রান্তি থাকবে না—শুধু পরিষ্কার ও সঠিক তথ্য।
বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) কী?
বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) হলো বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ইস্যুকৃত একটি সরকারি পরিচয়পত্র, যা একজন নাগরিকের পরিচয় ও ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের প্রমাণ বহন করে। এই কার্ডে নাগরিকের নাম, জন্মতারিখ, ছবি, আঙুলের ছাপ এবং একটি স্বতন্ত্র এনআইডি নম্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষিত থাকে।
এনআইডি চালু হওয়ার পর থেকে এটি সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের সেবা গ্রহণের জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে। ফলে জাতীয় পরিচয়পত্রের বৈধতা দেশের নাগরিক জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
প্রাথমিক জাতীয় পরিচয়পত্র ও এর বৈধতা
২০০৭ সালে ছবি সংযুক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সাধারণ নাগরিকদের জন্য মুদ্রিত ও ল্যামিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদান করে। সে সময় এসব জাতীয় পরিচয়পত্রের বৈধতা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৫ বছর।
এই কার্ডগুলো দীর্ঘ সময় ধরে কোনো বড় জটিলতা ছাড়াই ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল এবং ব্যবহার হয়ে আসছিল। অধিকাংশ নাগরিকের ধারণা ছিল, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলে জাতীয় পরিচয়পত্রও নবায়ন করতে হবে।
দুই বছরের মেয়াদবিশিষ্ট জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
পরবর্তী সময়ে, বিশেষ করে ২০২০ সালের আগের সময়কালে, নির্বাচন কমিশন দুই বছরের মেয়াদসহ জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ইস্যু করা শুরু করে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার আওতায় প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়েছিল।
এই দুই বছরের মেয়াদ কোনো সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ধারণ করা হয়নি। মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রস্তুতি। নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা ছিল—দুই বছরের মধ্যেই দেশের সব নাগরিককে অস্থায়ী এই পরিচয়পত্রের পরিবর্তে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করা।
দুই বছরের বৈধতা কেন বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছিল
উদ্দেশ্য ভালো হলেও স্মার্ট কার্ড বিতরণের প্রক্রিয়া সময়মতো সম্পন্ন হয়নি। এর ফলে কোনো ধরনের ভুল না করা সত্ত্বেও দেশের লক্ষ লক্ষ নাগরিকের দুই বছরের জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।
এই পরিস্থিতিতে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়। কিছু সংবাদমাধ্যমে এমনও দাবি করা হয় যে মেয়াদোত্তীর্ণ NID নবায়নের জন্য ফি দিতে হবে, যদিও এ ধরনের দাবির কোনো সরকারি ভিত্তি ছিল না। ফলে অনেক নাগরিকের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়—মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া NID কার্ড কি এখনও সরকারি ও আনুষ্ঠানিক কাজে ব্যবহার করা যাবে কিনা।
জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) মেয়াদ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সরকারি সিদ্ধান্ত
এই বিষয়টি নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২০২০ সালে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করে এবং নীতিগত বড় পরিবর্তন আনে।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্রের মেয়াদ আজীবন। এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে—
- ১৫ বছর মেয়াদি জাতীয় পরিচয়পত্র
- ২ বছর মেয়াদে ইস্যু করা জাতীয় পরিচয়পত্র
- নতুন নিবন্ধিত জাতীয় পরিচয়পত্র
- স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র (Smart NID)
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এখন আর বাংলাদেশের কোনো জাতীয় পরিচয়পত্রের মেয়াদ শেষ হয় না।
মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখের পরও কি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করা যাবে?
এটি বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ একটি প্রশ্ন—কার্ডে লেখা মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) কি এখনও ব্যবহার করা যায়? এর সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট উত্তর হলো: হ্যাঁ, ব্যবহার করা যাবে।
আগে ইস্যু করা অনেক জাতীয় পরিচয়পত্রে (বিশেষ করে ২ বছর বা ১৫ বছর মেয়াদি কার্ডে) কার্ডের পেছনে একটি মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ ছাপা থাকত। তবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (EC) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেই মুদ্রিত তারিখ এখন আর কার্যকর নয়।
নির্বাচন কমিশন যখন জাতীয় পরিচয়পত্রকে আজীবন বৈধ ঘোষণা করেছে, তখন পূর্বে ইস্যু করা সব NID কার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য বৈধ হয়ে গেছে। এর অর্থ হলো—আপনার কার্ডে মেয়াদ শেষের তারিখ লেখা থাকলেও সেটি এখনো আইনগতভাবে সব ধরনের সরকারি ও বেসরকারি কাজে ব্যবহার করা যাবে।
মেয়াদোত্তীর্ণ NID কার্ড সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য
নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নবায়ন করার কোনো প্রয়োজন নেই—কার্ডে মুদ্রিত মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও না। NID নবায়নের জন্য কোনো ফি নেই এবং মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখযুক্ত NID ব্যবহার করলে কোনো জরিমানা বা আইনি সমস্যা হয় না।
এই বিভ্রান্তির মূল কারণ হলো—অনেক শারীরিক NID কার্ড নীতিমালা হালনাগাদের আগেই মুদ্রিত হয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় ডাটাবেসে আপনার ভোটার তথ্য ও NID নম্বর সক্রিয়ই থাকে।
অতএব, যদি আপনার NID কার্ডে—
- দুই বছরের মেয়াদ উল্লেখ থাকে
- মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ দেখা যায়
- ২০২০ সালের আগে ইস্যু করা হয়ে থাকে
তাহলে নিশ্চিন্তে জানবেন—আপনি কোনো আইনি জটিলতা ছাড়াই ওই NID কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন।
নিরবিচ্ছিন্ন বৈধতা সহ অনলাইন এনআইডি রেজিস্ট্রেশন
নাগরিকদের সুবিধার্থে নির্বাচন কমিশন অনলাইন এনআইডি সিস্টেম চালু করেছে। নিবন্ধিত ভোটাররা এখন সরকারি ইসি ওয়েবসাইটে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের অনলাইন কপি ডাউনলোড করতে পারবেন।
এই অনলাইন এনআইডি কপিতে স্পষ্টভাবে লাইফটাইম বৈধতা দেখানো থাকে এবং কোনো মেয়াদ শেষের তারিখ থাকে না। এটি বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান যেমন ব্যাংক, মোবাইল অপারেটর এবং সরকারি দফতরে গ্রহণযোগ্য।
অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করার মাধ্যমে নাগরিকরা করতে পারবেন:
- লাইফটাইম বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড
- মেয়াদ শেষের তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি এড়ানো
- পরিচয় প্রমাণ হিসেবে এনআইডি সর্বত্র ব্যবহার করা
আপনার প্রিন্টকৃত জাতীয় পরিচয়পত্রে মেয়াদ শেষের তারিখ থাকলে কী করবেন?
যদি আপনার প্রিন্টকৃত কার্ডের পিছনে মেয়াদ শেষের তারিখ লেখা থাকে, তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই। নির্বাচন কমিশন নাগরিকদের বিভ্রান্তি দূর করতে অনলাইন এনআইডি সংস্করণ ব্যবহার করার সুবিধা দিয়েছে, যা আপডেট করা নীতিমালা প্রতিফলিত করে।
এই অনলাইন সংস্করণ আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের সঠিক ডিজিটাল কপি এবং এটি সরকারি কাজে সম্পূর্ণ বৈধ। অনেকেই এটি পছন্দ করেন, কারণ এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে জাতীয় পরিচয়পত্রের বৈধতা আজীবন।
বাংলাদেশে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের বৈধতা বোঝা
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) শুধু পরিচয়ের একটি কাগজ নয়—এটি ভোট দেওয়া, সরকারি সেবা গ্রহণ এবং দৈনন্দিন অনেক লেনদেনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক নাগরিক প্রায়ই জানতে চান: জাতীয় পরিচয়পত্রের বৈধতা কত বছর? বা তারা কার্ডের পেছনের অংশে থাকা মেয়াদ শেষের তারিখ লক্ষ্য করেন এবং এর ব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন হন। নিয়ম পরিবর্তন এবং স্মার্ট কার্ড চালুর সাথে সাথে, NID-এর বর্তমান বৈধতা বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই গাইডটি বাংলাদেশের বিদ্যমান ও নতুনভাবে ইস্যু করা জাতীয় পরিচয়পত্র উভয়ের জন্য স্পষ্টতা প্রদান করে।
ন্যাশনাল আইডি কার্ড (NID) বৈধতার ইতিহাস
২০০৭ সালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোটার তালিকা ছবি সহ প্রকাশ করার পর সাধারণ নাগরিকদের জন্য প্রিন্টেড ল্যামিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বিতরণ করা হয়। সেই সময় এই কার্ডগুলোর বৈধতা ছিল ১৫ বছর।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা পরিবর্তিত হয়। ২০২০ সালের দিকে নতুনভাবে ইস্যু করা NID-গুলোতে ২ বছরের বৈধতা ধার্য করা হয়, যাতে নাগরিকদের স্মার্ট কার্ডে রূপান্তর করা যায়। তবে এই সীমিত বৈধতা লাখ লাখ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, বিশেষ করে তখনও অনেক নাগরিক দুই বছরের মধ্যে স্মার্ট কার্ড পাননি।
দুই বছরের মেয়াদ এবং স্মার্ট কার্ড বিতরণের চ্যালেঞ্জ
২০২০ সালের মধ্যে প্রায় ১১ মিলিয়ন জাতীয় পরিচয়পত্র দুই বছরের মেয়াদসহ জারি করা হয়েছিল। সংক্ষিপ্ত মেয়াদ ধার্য করা হয়েছিল যাতে নির্বাচন কমিশন প্রতিটি নাগরিকের হাতে স্মার্ট কার্ড পৌঁছে দিতে পারে।
তবে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বেশিরভাগ নাগরিক এখনও স্মার্ট কার্ড পাননি। ফলে, অনেক মানুষ অনিশ্চয়তায় ছিলেন যে তাদের মেয়াদোত্তীর্ণ দুই বছরের এনআইডি কার্ড এখনও ব্যবহারযোগ্য কিনা। পুনঃনবীকরণের জন্য ফি প্রদান সংক্রান্ত শঙ্কাও ছড়িয়েছিল, যদিও এই তথ্যের কোনো সরকারি ভিত্তি নেই।
নির্বাচন কমিশন এই সমস্যাটি স্বীকার করে সমাধানের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যাতে নাগরিকরা তাদের পরিচয়পত্র ব্যবহারে কোনো বিঘ্ন ছাড়াই অব্যাহত রাখতে পারেন।
আজীবন বৈধতা
মেয়াদ শেষ হওয়া এনআইডি নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছিল, তা দূর করতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২০২০ সালে একটি নোটিফিকেশন জারি করে নিশ্চিত করেছে যে সমস্ত জাতীয় পরিচয়পত্র এখন আজীবন বৈধ। এর মানে হলো:
- পূর্বে যাদের ২ বছর বা ১৫ বছরের মেয়াদযুক্ত এনআইডি ছিল, তারা এখন তাদের কার্ড অসীমকাল ব্যবহার করতে পারবেন।
- নতুনভাবে নিবন্ধিত জাতীয় পরিচয়পত্র প্রথম থেকেই আজীবন বৈধ হিসেবে জারি করা হয়।
- প্রাথমিক ২ বছরের মেয়াদটি ছিল নাগরিকদের স্মার্ট কার্ডে স্থানান্তর করার জন্য, কিন্তু যেহেতু ইসি তা পুরোপুরি বিতরণ করতে পারেনি, তাই আজীবন বৈধতা নিশ্চিত করে যে নাগরিকরা মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া নিয়ে চিন্তা না করে তাদের পরিচয়পত্র ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবেন।
- পুরনো ল্যামিনেটেড এনআইডিতে মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ থাকা সত্ত্বেও, এখন নাগরিকরা অনলাইনে ডিজিটাল কপি অ্যাক্সেস করতে পারবেন, যা কখনো শেষ হবে না। একইভাবে, স্মার্ট কার্ডধারীরাও স্থায়ী বৈধতা ভোগ করেন, ফলে তাদের কার্ড কার্যত আজীবন জাতীয় পরিচয়পত্র হিসেবে গণ্য হয়।
কিভাবে অনলাইনে রেজিস্টার করে আপনার আজীবন জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড করবেন
নিবন্ধিত ভোটাররা এখন সহজেই নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে অনলাইন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারেন। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিকরা করতে পারবেন:
- তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ডিজিটাল কপি ডাউনলোড করা।
- নিশ্চিত করা যে, কার্ডটি আজীবন বৈধ থাকবে, পুরনো কার্ডে থাকা মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখের পরও।
- ডাউনলোড করা এনআইডি ব্যবহার করে সরকারি যাচাইকরণ, ভোটদান এবং অন্যান্য পরিষেবায় সঠিকভাবে ব্যবহার করা।
এই সিস্টেমটি নাগরিকদের জন্য একটি সুবিধাজনক, নিরাপদ এবং সহজলভ্য উপায় প্রদান করে, যার মাধ্যমে তারা সর্বদা বৈধ পরিচয়পত্র বজায় রাখতে পারেন। আপনি যদি পুরনো দুই বছরের এনআইডি বা নতুন স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করুন, অনলাইন রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করে যে আপনার পরিচয় অনির্দিষ্টকালের জন্য স্বীকৃত।
নির্বাচন কমিশন জাতীয় পরিচয়পত্রকে আজীবন বৈধ করে অনলাইনে অ্যাক্সেসের সুযোগ দিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধান করেছে। এতে নাগরিকরা তাদের এনআইডি সকল সরকারি কাজ ও পরিষেবায় আত্মবিশ্বাস এবং সহজে ব্যবহার করতে পারছেন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কত বছর বৈধ?
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্র আজীবন বৈধ। এখন আর কোনো এনআইডির মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ নেই।
২. কার্ডে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ছাপা থাকলেও কি এনআইডি বৈধ?
হ্যাঁ। আপনার এনআইডি কার্ডের পেছনে ২ বছর বা ১৫ বছরের মেয়াদ লেখা থাকলেও সেটি আইনগতভাবে সম্পূর্ণ বৈধ এবং সকল সরকারি ও বেসরকারি কাজে ব্যবহারযোগ্য।
৩. ছাপা মেয়াদ শেষ হলে কি এনআইডি নবায়ন করতে হবে?
না। নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে এনআইডি নবায়নের কোনো প্রয়োজন নেই এবং এর জন্য কোনো ফিও দিতে হয় না।
৪. দুই বছর মেয়াদি এনআইডি কি এখনও ব্যবহার করা যাবে?
হ্যাঁ। নির্বাচন কমিশনের ২০২০ সালের প্রজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দুই বছর মেয়াদি সকল এনআইডিই এখন আজীবন বৈধ।
৫. পুরোনো ১৫ বছর মেয়াদি ল্যামিনেটেড এনআইডির কী হবে?
২০০৭ সালের পর ইস্যু করা পুরোনো ল্যামিনেটেড এনআইডি কার্ডগুলোও আজীবন বৈধ এবং কোনো আইনগত সমস্যায় পড়া ছাড়াই ব্যবহার করা যায়।
৬. স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র কি আজীবন বৈধ?
হ্যাঁ। স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র শুরু থেকেই আজীবন বৈধ হিসেবে ইস্যু করা হচ্ছে।
৭. ২০২০ সালের আগে ইস্যু করা এনআইডি কি বৈধ?
হ্যাঁ। ২০২০ সালের আগে ইস্যু করা সব এনআইডিই নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় ডাটাবেসে সক্রিয় রয়েছে, কার্ডে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ থাকলেও তা বৈধ।
৮. অনলাইনে ডাউনলোড করা এনআইডি কি অফিসিয়াল কাজে ব্যবহার করা যায়?
হ্যাঁ। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা অনলাইন এনআইডিতে আজীবন বৈধতা উল্লেখ থাকে এবং এটি ব্যাংক, মোবাইল অপারেটর ও সরকারি দপ্তরে গ্রহণযোগ্য।
৯. দেখতে মেয়াদোত্তীর্ণ এমন এনআইডি ব্যবহার করলে কি কোনো আইনি সমস্যা হবে?
না। এমন এনআইডি ব্যবহারে কোনো জরিমানা, আইনি জটিলতা বা নিষেধাজ্ঞা নেই।
১০. নির্বাচন কমিশন কেন আগে দুই বছর মেয়াদি এনআইডি চালু করেছিল?
স্মার্ট এনআইডিতে রূপান্তরের প্রস্তুতির জন্যই দুই বছর মেয়াদি এনআইডি চালু করা হয়েছিল; এটি নাগরিকের পরিচয় বৈধতার কোনো সীমাবদ্ধতার কারণে নয়।
উপসংহার
বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এখন সম্পূর্ণভাবে আজীবন বৈধ—তা ২ বছর বা ১৫ বছর মেয়াদি হিসেবে ইস্যু হোক না কেন। নির্বাচন কমিশন মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে নবায়ন, ফি বা কার্ড পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা বাতিল করেছে। কার্ডে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ থাকলেও এনআইডি সকল সরকারি ও বেসরকারি সেবায় আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য। পাশাপাশি আজীবন বৈধ অনলাইন এনআইডি ডাউনলোডের সুবিধা থাকায় নাগরিকরা নিশ্চিন্তে কোনো বিভ্রান্তি ছাড়াই তাদের পরিচয়পত্র ব্যবহার করতে পারেন।

এপ্রিল 5, 2026 1:07 অপরাহ্ন