এনআইডি ভুল সংশোধন অভিযান: ৬৮ হাজার আবেদন নিষ্পত্তিতে উদ্যোগী নির্বাচন কমিশন

এনআইডি ভুল সংশোধন অভিযান

এনআইডি ভুল সংশোধন অভিযান: ৬৮ হাজার আবেদন নিষ্পত্তিতে উদ্যোগী নির্বাচন কমিশন. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রায় ৬৮ হাজার ঝুলে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি বিশেষ সংশোধন অভিযান শুরু করেছে। এসব আবেদনের মধ্যে রয়েছে বানান ভুল, নাম পরিবর্তন, পেশাগত তথ্য হালনাগাদ, বিবাহবিচ্ছেদ-সংক্রান্ত সংশোধন এবং বিভিন্ন তথ্যগত ত্রুটি।

বর্তমানে ইসি সারা দেশের মাঠপর্যায়ের কার্যালয়গুলোতে জমে থাকা বিপুল সংখ্যক এনআইডি সংশোধন আবেদন নিয়ে কাজ করছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৬৭,৮৬৪টি আবেদন এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে, যা পাঁচটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত।

এই জট দ্রুত কমাতে ইসি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘A’ থেকে ‘C’ ক্যাটাগরির সব আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে, যেগুলো তাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে। এর ফলে নাগরিকদের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে, কারণ এনআইডি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি।

কী ধরনের ভুল সংশোধন করা হচ্ছে?

এই সংশোধন অভিযানে নাগরিকদের জানানো বিভিন্ন ধরনের ভুল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:

ভুলের ধরনবিবরণ
বানান ভুলনামের অক্ষর ভুল বা বানান ত্রুটি
নাম পরিবর্তন (ধর্মান্তর)ধর্ম পরিবর্তনের পর নতুন নাম হালনাগাদ
পেশাগত তথ্যপেশা বা কর্মস্থলের পরিবর্তন
বিবাহবিচ্ছেদ-সংক্রান্তবৈবাহিক অবস্থা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য সংশোধন
তথ্যগত ভুলজন্মতারিখ, ঠিকানা বা অন্যান্য তথ্যের ত্রুটি

কারা সংশোধনের ক্ষমতা রাখেন?

বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী, ভুলের ধরন অনুযায়ী সংশোধনের ক্ষমতা বিভিন্ন পর্যায়ে বিভক্ত। তবে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষমতা একমাত্র এনআইডির মহাপরিচালকের হাতে ন্যস্ত।

আগে ১০ বছরের কম বয়স সংশোধন পরিচালক পর্যায়ে করা যেত, কিন্তু এখন এই নিয়ম পরিবর্তন করে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে।

এনআইডি বিভাগের পরিচালক (অপারেশনস) সাইফুল ইসলাম জানান:
“বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা তিন ধরনের ক্যাটাগরির সংশোধন করতে পারেন। এসব সংশোধনের সংখ্যা প্রায় ৬৮ হাজার। আমরা তাদের দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছি।”

ক্যাটাগরি অনুযায়ী আবেদনের চিত্র

ক্যাটাগরিআবেদন সংখ্যাপ্রক্রিয়াকরণ পর্যায়
A-1১,২৭৩মাঠপর্যায়
A১৬,৪২১মাঠপর্যায়
B-1৫,৭২৫মাঠপর্যায়
B২৫,৩১৮মাঠপর্যায়
C১৯,১২৭মাঠপর্যায়
মোট৬৭,৮৬৪

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

জাতীয় পরিচয়পত্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক নথি। ভোটার নিবন্ধন, ব্যাংকিং, মোবাইল সিম নিবন্ধন, জমি রেজিস্ট্রেশনসহ প্রায় সব সরকারি সেবার জন্য এটি অপরিহার্য।

এনআইডিতে ভুল থাকলে নাগরিকদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়—যেমন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারা, আইনি জটিলতা, বিবাহ বা সম্পত্তি সংক্রান্ত কাজে বাধা ইত্যাদি।

মাঠপর্যায়ে দ্রুত সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন প্রশাসনিক জট কমিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য সেবা সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)

বাংলাদেশে এনআইডি সংশোধনের জন্য কীভাবে আবেদন করব?

নাগরিকরা ইসির এনআইডি সেবা পোর্টালের মাধ্যমে অথবা স্থানীয় ইসি অফিসে গিয়ে আবেদন করতে পারেন। সংশোধনের ধরন অনুযায়ী জন্মসনদ, শিক্ষাগত সনদ বা আদালতের নথি সংযুক্ত করতে হবে।

এনআইডি সংশোধন করতে কত সময় লাগে?

নতুন উদ্যোগের ফলে A, B এবং C ক্যাটাগরির আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ না থাকলেও দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এনআইডিতের্তনের জন্য কী কী কাগজপত্র দরকার?

ধর্মান্তরের কারণে নাম পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট সনদ বা হলফনামা প্রয়োজন। অন্যান্য ক্ষেত্রে নোটারি করা হলফনামা ও সহায়ক নথি যেমন পাসপোর্ট বা জন্মসনদ লাগতে পারে।

উপসংহার

নির্বাচন কমিশনের এই এনআইডি ভুল সংশোধন অভিযান সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রায় ৬৮ হাজার ঝুলে থাকা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে হাজারো নাগরিকের ভোগান্তি কমবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষমতায়ন এবং দ্রুত কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ইসি কার্যকর জনসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেখিয়েছে। যাদের আবেদন এখনো প্রক্রিয়াধীন, তাদের স্থানীয় ইসি অফিসে যোগাযোগ করে সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Similar Posts

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।