বাংলাদেশে এনআইডি জালিয়াতি রোধে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের নির্দেশনা
বাংলাদেশে এনআইডি জালিয়াতি রোধে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের নির্দেশনা. বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতি এখন একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে এনআইডি তথ্য ফাঁস এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের একাধিক ঘটনার পর। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সার্ভারে ১২ কোটিরও বেশি নাগরিকের তথ্য সংরক্ষিত থাকায়, সামান্য নিরাপত্তা ত্রুটিও লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এই ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এনআইডি-সংক্রান্ত সব সিস্টেমে নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের জন্য কঠোর নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার করা, অননুমোদিত প্রবেশ প্রতিরোধ করা এবং জালিয়াত ও সাইবার অপরাধীদের হাত থেকে সংবেদনশীল ভোটার তথ্য সুরক্ষিত রাখা।
এই প্রবন্ধে এনআইডি জালিয়াতি রোধে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনাগুলো, এসব পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা এবং জাতীয় পরিচয় ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগুলো কীভাবে সহায়তা করে—তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
কেন এনআইডি জালিয়াতি রোধে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতি ও তথ্য ফাঁসের ঘটনা সরকারি বিভিন্ন সিস্টেমের দুর্বলতা স্পষ্ট করে তুলেছে। দুর্বৃত্তরা প্রায়ই দুর্বল বা দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকা পাসওয়ার্ডের সুযোগ নিয়ে অবৈধভাবে ডেটাবেসে প্রবেশ করে। এর ফলে পরিচয় চুরি, ভুয়া এনআইডি ব্যবহার এবং বিভিন্ন আর্থিক অপরাধ সংঘটিত হয়।
গত বছর একটি সরকারি ওয়েবসাইট থেকে এনআইডি তথ্য ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর নির্বাচন কমিশন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে আরও সতর্ক হয়েছে। এরপর থেকে কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে—
- এনআইডি সার্ভারের নিরাপত্তা জোরদার করা
- অননুমোদিত প্রবেশ সীমিত করা
- দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সচেতন ও জবাবদিহির আওতায় রাখা
- অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি কমানো
নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা দীর্ঘমেয়াদি বা বারবার অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি।
নির্বাচন কমিশনের জারি করা সরকারি নির্দেশনা
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম হুমায়ুন কবির সিস্টেমের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করেছেন। এসব নির্দেশনা ইতোমধ্যে সারা দেশের মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারকারীকে কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই প্রতি মাসে একবার করে সিস্টেমের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে হবে। সংবেদনশীল এনআইডি তথ্য ও ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্মে যাদের প্রবেশাধিকার রয়েছে, তাদের জন্য এ নির্দেশনা বাধ্যতামূলক।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এনআইডি জালিয়াতি ও তথ্য ফাঁস রোধে নেওয়া সামগ্রিক কৌশলের অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।
নতুন নিয়মের আওতায় অন্তর্ভুক্ত সিস্টেম ও ইউজার আইডি
নতুন নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS)–এর সকল ইউজার আইডির পাসওয়ার্ড প্রতি মাসে হালনাগাদ করতে হবে। এই নিয়মটি যাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তারা হলেন—
- উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা
- সিনিয়র জেলা / জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা
- আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা
- জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের কর্মকর্তারা
কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS) হলো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম, যা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংরক্ষণ, হালনাগাদ ও যাচাইয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়। এই সিস্টেমে কোনো ধরনের অননুমোদিত প্রবেশ ঘটলে ব্যাপক পরিসরে তথ্যের অপব্যবহার হতে পারে। সে কারণেই তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি।
মাসিক পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে কীভাবে এনআইডি সার্ভারের নিরাপত্তা জোরদার হয়
প্রতি মাসে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করাকে অনেকের কাছে ছোট একটি পদক্ষেপ মনে হতে পারে। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণকারী সিস্টেমের ক্ষেত্রে এটি জালিয়াতি প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সার্ভারে নাগরিকদের অতি সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষিত থাকে।
নিয়মিত পাসওয়ার্ড হালনাগাদ করার ফলে কোনোভাবে লগইন তথ্য ফাঁস হয়ে গেলেও বা অনুমান করা গেলেও অননুমোদিত প্রবেশের সময়সীমা খুবই কম থাকে। এর ফলে এনআইডি জালিয়াতি, তথ্য চুরি এবং অবৈধভাবে তথ্য শেয়ার করার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।
মাসিক পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের উপকারিতা হলো—
- ঝুঁকিপূর্ণ বা আক্রান্ত ইউজার আইডির দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার সীমিত করা
- ফাঁস হওয়া বা দুর্বল পাসওয়ার্ড পুনরায় ব্যবহার রোধ করা
- ভেতর থেকে এনআইডি তথ্যের অপব্যবহার কমানো
- সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সবসময় সচেতন রাখা
এই আগাম ও প্রতিরোধমূলক উদ্যোগের ফলে এনআইডি অবকাঠামো অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত—উভয় ধরনের সাইবার হুমকির বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ হয়ে ওঠে।
এনআইডি ডেটা ফাঁসের ঘটনা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
গত বছর একটি সরকারি ওয়েবসাইট থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)–এর তথ্য ফাঁসের ঘটনা নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে। এই ঘটনা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয় যে, যথাযথ ডিজিটাল সুরক্ষা ও নিয়মিত নিরাপত্তা চর্চা কঠোরভাবে অনুসরণ না করলে সরকারি ডেটাবেস কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ডেটা ফাঁসের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন—
- অভ্যন্তরীণ প্রবেশাধিকার (অ্যাক্সেস) নিয়ন্ত্রণ পুনরায় পর্যালোচনা করে
- এনআইডি-সংক্রান্ত সিস্টেমগুলোর নজরদারি জোরদার করে
- সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বারবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে
- প্রতিটি প্রশাসনিক স্তরে দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে
এই সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS)–এর পাসওয়ার্ড প্রতি মাসে পরিবর্তনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে যে তথ্য নিরাপত্তাকে একবারের সমাধান হিসেবে নয়, বরং একটি চলমান ও নিয়মিত দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এনআইডি জালিয়াতি প্রতিরোধে নির্বাচন কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS)-এর ইউজার আইডি সুরক্ষার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন না করলে সিস্টেম গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, যার মধ্যে রয়েছে পরিচয় চুরি এবং অননুমোদিত এনআইডি তথ্য পরিবর্তন।
- নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করবেন
- কারও সঙ্গে লগইন তথ্য বা পাসওয়ার্ড শেয়ার করবেন না
- এনআইডি সিস্টেমের জন্য শক্তিশালী ও ইউনিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন
- কোনো সন্দেহজনক সিস্টেম কার্যক্রম নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গে তা রিপোর্ট করবেন
এই দায়িত্বগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন মানবিক ত্রুটি কমাতে চায়, যা জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত।
বাংলাদেশে এনআইডি জালিয়াতি প্রতিরোধে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের উপায়
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সিস্টেমে কোটি কোটি নাগরিকের সংবেদনশীল তথ্য সংরক্ষিত থাকে, যা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের বিষয়। তথ্য ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনার কারণে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষা এবং এনআইডি জালিয়াতি প্রতিরোধের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে। এই পদক্ষেপগুলি প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ বাংলাদেশি নাগরিকের তথ্য, যার মধ্যে ১০ লাখ রোহিঙ্গাও রয়েছে, সুরক্ষিত রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পূর্বের নিরাপত্তা ঘটনা বিবেচনা করে, নির্বাচন কমিশন নিয়মিত সিস্টেম পাসওয়ার্ড আপডেটের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছে। এখন সকল স্তরের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে যাতে এনআইডি ডাটাবেসের অখণ্ডতা রক্ষা করা যায় এবং অননুমোদিত প্রবেশ প্রতিরোধ করা যায়।
মাসিক পাসওয়ার্ড আপডেট: একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) জালিয়াতি রোধে কার্যকরভাবে প্রতিরোধের জন্য পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা এখন নির্বাচন কমিশনের কৌশলের মূল ভিত্তি হয়ে উঠেছে। NID বিভাগীয় মহাপরিচালক এ.কে.এম. হুমায়ূন কবিরের নির্দেশ অনুযায়ী, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS)-এর পাসওয়ার্ড প্রতিমাসে পরিবর্তন করতে হবে।
- উপজেলা নির্বাচন অফিসার
- সিনিয়র জেলা ও জেলা নির্বাচন অফিসার
- আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার
- জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী
নিয়মিত আপডেট ডেটা লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমায় এবং নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্যকে সাইবার হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে।
নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের গুরুত্ব
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন প্রতি মাসে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) তথ্য ফাঁসের গুরুতর উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে। গত বছর, সরকারী একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল, যা সিস্টেমের দুর্বলতা উদঘাটন করেছিল। এই ঘটনার পর কমিশন ভবিষ্যতে এমন লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও NID জালিয়াতি বন্ধ করার জন্য কঠোর নিরাপত্তা প্রটোকল প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়।
নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের প্রতি মাসে তাদের কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS) পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে বাধ্য করে, যাতে পুরনো তথ্য ফাঁস হলেও NID সার্ভারে অননুমোদিত প্রবেশ সীমিত থাকে। এই সক্রিয় পদক্ষেপ বাংলাদেশের ১ কোটি ২০ লাখ নাগরিক এবং প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।
নাগরিক পরিচয়পত্র (NID) নিরাপত্তার জন্য প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ
এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য বিভিন্ন কর্মকর্তাদের পূর্ণমিলন অপরিহার্য:
- উপজেলা নির্বাচন অফিসারগণ: স্থানীয় NID তথ্যের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর।
- জেলা ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসারগণ: নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঞ্চলিকভাবে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেন।
- আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসারগণ: বিধি-নিষেধ অনুসরণ হচ্ছে কি না তদারকি করেন এবং সমস্যা কেন্দ্রীয় অফিসে রিপোর্ট করেন।
- জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন বিভাগ: পুরো সিস্টেম পর্যবেক্ষণ করে, নিশ্চিত করেন যে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন সঠিকভাবে করা হচ্ছে।
এই কর্মকর্তাদের এই ভূমিকা বোঝা এবং পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের নির্দেশাবলী অনুসরণ করা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে NID জালিয়াতি রোধ করা যায় এবং জাতীয় পরিচয় ব্যবস্থায় জনসাধারণের আস্থা বজায় থাকে।
পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এবং NID প্রতারণা রোধ করার জন্য ধাপে ধাপে নির্দেশনা
নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং NID প্রতারণা রোধ করার জন্য, কর্মকর্তাদের তাদের কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS) পাসওয়ার্ড আপডেট করার সময় একটি সুসংগঠিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন এটি প্রতিমাসে করা বাধ্যতামূলক করেছে, যাতে ১ কোটি ২০ লাখ বাংলাদেশি নাগরিকসহ ১০ লাখ রোহিঙ্গার সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষিত থাকে।
ধাপ ১: সিএমএস-এ নিরাপদভাবে প্রবেশ করুন
কর্মকর্তাদের অবশ্যই কেবল তাদের বিদ্যমান প্রমাণপত্র ব্যবহার করে সরকারি সিএমএস পোর্টালের মাধ্যমে লগইন করতে হবে। অনুমোদনবিহীন প্রবেশ এড়াতে পাবলিক নেটওয়ার্ক বা অসুরক্ষিত ডিভাইস ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
ধাপ ২: পাসওয়ার্ড সেটিংসে যান
লগইন করার পর “ইউজার অ্যাকাউন্ট” বিভাগে যান এবং “পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন” নির্বাচন করুন। এই অপশনটি সব নির্ধারিত ভূমিকার জন্য প্রযোজ্য, যেমন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, জ্যেষ্ঠ জেলা/জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন বিভাগের কর্মী।
ধাপ ৩: একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করুন
নতুন পাসওয়ার্ড তৈরি করার সময়:
- অন্তত ১২টি অক্ষর ব্যবহার করুন, যাতে থাকবে অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্নের সমন্বয়
- সহজে অনুমানযোগ্য তথ্য যেমন নাম বা জন্মতারিখ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন
- পাসওয়ার্ড নিরাপদে সংরক্ষণ করার জন্য পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার বিবেচনা করুন
ধাপ ৪: নিশ্চিত করুন এবং পরিবর্তন সংরক্ষণ করুন
নতুন পাসওয়ার্ড প্রবেশ করার পর, এটি নিশ্চিত করুন এবং পরিবর্তনগুলো সংরক্ষণ করুন। নতুন পাসওয়ার্ড সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা যাচাই করার জন্য লগ আউট করে পুনরায় লগইন করুন।
ধাপ ৫: তত্ত্বাবধায়কদের কাছে রিপোর্ট করুন
পাসওয়ার্ড আপডেট করার পরে, তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাকে অবহিত করুন যাতে দায়বদ্ধতা বজায় থাকে এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হয়েছে তা নিশ্চিত করা যায়।
উপসংহার
বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সিস্টেমের সততা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১২০ মিলিয়ন নাগরিক এবং ১ মিলিয়ন রোহিঙ্গা নিবন্ধিত থাকার কারণে, তথ্য ফাঁসের প্রভাব অতি বিশাল হতে পারে। NID ডিভিশন ডিরেক্টর জেনারেল এ.কে.এম. হুমায়ুন কবিরের নির্দেশমতে, কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS)-এর জন্য মাসিক পাসওয়ার্ড পরিবর্তন একটি সহজ কিন্তু কার্যকরী পদ্ধতি, যা NID প্রতারণা রোধে সাহায্য করে।
- নিয়মিত পরিবর্তন অপরিহার্য: প্রতিমাসে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক।
- দৃঢ় এবং অনন্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন: অনুমানযোগ্য পাসওয়ার্ড এড়িয়ে চলুন, যাতে অননুমোদিত প্রবেশাধিকার রোধ করা যায়।
- দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করুন: প্রতিটি পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের পর সুপারভাইজারকে জানাতে হবে, যাতে নির্দেশনা পালন নিশ্চিত হয়।
- সচেতন থাকুন: নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষার জন্য নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলুন।
এই নির্দেশনাগুলি কঠোরভাবে অনুসরণ করলে, কর্মকর্তারা জাতীয় পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য রক্ষা করতে, প্রতারণা প্রতিরোধ করতে এবং NID সিস্টেমে জনসাধারণের বিশ্বাস বজায় রাখতে সক্ষম হবেন। নিয়মিত আপডেট, সতর্কতা এবং নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে NID সার্ভার সুরক্ষিত থাকে এবং নাগরিকদের তথ্য নিরাপদ থাকে।

এপ্রিল 5, 2026 12:54 অপরাহ্ন